নার্সিং ডিপ্লোমা ও বিএসসি ভর্তি পরীক্ষা প্রস্ততি

 নার্সিং ডিপ্লোমা ও বিএসসি ভর্তি পরীক্ষা প্রস্ততি

নার্সিং প্রফেশনে আসতে আগ্রহী? Diploma In Nursing Science & Midwifery

নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করে কেউ বেকার থাকছে না, ডিপ্লোমা কোর্সের পরপরই চাকরি মিলছে অনেকের, বিএসসি কোর্সের শেষে রয়েছে বিশেষ সুযোগ সুবিধা।

HSC পাসের পরে, নার্সিং এ রয়েছে তিনটি কোর্স। তিন বছর মেয়াদি দুটি ডিপ্লোমা কোর্স এবং চার বছর মেয়াদি একটি বিএসসি কোর্স।

√ ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি

√ ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি

√ বিএসসি ইন নার্সিং

কোর্সের শেষে রয়েছে ছয় মাস ইন্টার্নশিপ। তারপরেই BNMC Licensing/Registration Exam! রেজিস্ট্রার্ড নার্স বা RN হওয়ার পরপরই জব হয়ে যায় অনেকের।

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতেও চাকরির ক্ষেত্র দিন দিন বাড়ছে। তবে, অধিকাংশ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নিজেদের নার্সিং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হাসপাতালে ইন্টার্নশীপ ও চাকরির সুযোগ করে দেয়।

√ যেকোনো বিভাগ (বিজ্ঞান/মানবিক/ব্যাবসা) থেকে HSC পাসের পর ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়।

√ আর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC পাসের পর বিএসসি কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়।

উল্লেখ্য, যদি কেউ প্রথমে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন এবং কোর্স সম্পন্ন করে বিএসসি করতে চান, সেক্ষেত্রে রয়েছে দুই বছরের বিএসসি কোর্স এবং কোর্সের শেষ ৬ মাস ইন্টার্নশিপ।

ভর্তি পরীক্ষার ৩-৭ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পাস করা শিক্ষার্থীরা মেধাতালিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকেন।

ভর্তি পরীক্ষার নম্বরবণ্টন—

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ও ডিপ্লেমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টনঃ

√ বাংলাঃ ২০

√ ইংরেজিঃ ২০

√ গণিতঃ ১০

√ সাধারণ বিজ্ঞানঃ ২৫

√ সাধারণ জ্ঞানঃ ২৫

√ মোটঃ ১০০ নম্বর

বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টনঃ

√ বাংলাঃ ২০

√ ইংরেজিঃ ২০

√ সাধারণ গণিতঃ ১০

√ জীববিজ্ঞানঃ ১০

√ পদার্থঃ ১০

√ রসায়নঃ ১০

√ সাধারণ জ্ঞানঃ ২০

মানবন্টন দেখে আপনারা অনেকটা পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন, ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় পর্যায়ে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর প্রশ্ন আসে। শুধু ব্যতিক্রম হচ্ছে বিজ্ঞান বিষয়ে।

√ ডিপ্লোমায় সাধারণ বিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন হয়, কারণ এই কোর্স সব বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) শিক্ষার্থীদের জন্য।

√ আর বিএসসিতে সাধারণ বিজ্ঞানের পরিবর্তে পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকে।

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য বাজারের ভালো মানের নার্সিং ভর্তি গাইড দেখতে পারেন। সেখান থেকে বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখলে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে।

# বাংলাঃ প্রস্তুতি নিতে হবে নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই, মুনীর চৌধুরী রচিত। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দাগিয়ে দাগিয়ে পড়তে হবে।

এ ছাড়া আগের বছরের বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের বছরের বাংলা ব্যাকরণ অংশের প্রশ্নগুলো বুঝে বুঝে সমাধান করতে পারলে বাংলায় ভালো নম্বর তোলা সহজ হবে।

# ইংরেজিঃ ইংরেজিতে দুই ধরনের প্রশ্ন আসে—গ্রামার আর ভোকাবুলারি। গ্রামার টপিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলোঃ Parts of speech, Correction, Right form of verbs, Voice, Article, Preposition, Narration, Transformation of sentence আর

ভোকাবুলারিভিত্তিক টপিকগুলোর মধ্যে আছেঃ Synonyms-Antonyms, Preposition, Translation, Proverb, Idioms and Phrases, Spelling, Group verb।

এগুলো ছাড়াও বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ইংরেজি গ্রামার অংশের প্রশ্ন ও মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার ইংরেজি গ্রামার অংশের বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে, নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি নিয়ে আর টেনশন করতে হবে না।

# সাধারণ জ্ঞানঃ শুরুতে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ও মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত পত্রিকা এবং মাসিক কারেন্ট এফেয়ার্স পড়লে সাধারণ জ্ঞানে আপডেট থাকা যাবে।

সাধারণ জ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো হলো—পাকিস্তান শাসনামল ও স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের উপজাতি এবং সংস্কৃতি, বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, উপনাম, পূর্বনাম, ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা, নদ-নদী, জাতীয় বিষয়াবলি (পতাকা, প্রতীক, সংগীত, জাতির পিতা), আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সীমারেখা, প্রণালি, মহাদেশভিত্তিক দেশ ও তাদের রাজধানী, গুরুত্বপূর্ণ শহর, বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর ও সমুদ্রবন্দরবিহীন দেশ, বিমান সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, গেরিলা সংস্থা, আলোচিত যুদ্ধবিগ্রহ, বিরোধপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল, আলোচিত বিপ্লব, চুক্তি-সনদ-সম্মেলন। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদর দপ্তর। দ্বীপ, পর্বত, মরুভূমি, সাগর, জলপ্রপাত, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট, রাজনৈতিক ও সামরিক জোট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস। আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা।

সাধারণ বিজ্ঞানঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান টেক্সট বই পড়তে হবে।

# জীববিজ্ঞানঃ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বইয়ের বেসিক ইনফরমেশন গুলো ভালো করে পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো হলো—কোষ ও কোষের গঠন, অণুজীব, উদ্ভিদের শরীরতত্ত্ব, টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র, উদ্ভিদের প্রজনন, শৈবাল ও ছত্রাক, কোষবিভাজন, কোষ রসায়ন, ব্রায়োফাইটা, টেরিডোফাইটা, নগ্নজীবী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, জীবপ্রযুক্তি, জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ।

# রসায়নঃ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের রসায়নের বইয়ের বেসিক ও গুরুত্বপূর্ণ টপিক—রাসায়নিক পরিবর্তন, গুণগত রসায়ন, পর্যায়ভিত্তিক ধর্ম ও বন্ধন, কর্মমুখী রসায়ন, ল্যাবরেটরির নিরাপদ ব্যবহার। পরিবেশ রসায়ন, পরিমাণগত রসায়ন, অর্থনৈতিক রসায়ন, তড়িৎ রসায়ন, জৈব রসায়ন। এসব টপিকের ওপর প্রতিবছর একাধিক প্রশ্ন আসে। তাই এসব টপিক পড়লে পরীক্ষায় কমন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

# পদার্থবিজ্ঞানঃ বেসিকের উপর গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। পদার্থ বিজ্ঞানের ম্যাথ রিলেটড টপিক পরিহার করে পড়তে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ টপিক—ভৌতজগৎ ও পরিমাপ, ভেক্টর, গতিবিদ্যা, নিউটনীয় বলবিদ্যা, কাজশক্তি ও ক্ষমতা, মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ, পদার্থের গাঠনিক ধর্ম, পর্যায়বৃত্তিক গতি, তরঙ্গ, আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব, তাপগতিবিদ্যা, স্থির তড়িৎ, চলতড়িৎ, জ্যামিতিক আলোক বিজ্ঞান, ভৌত আলোক বিজ্ঞান। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পরমাণু মডেল ও নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান, তড়িৎ চৌম্বক ও আবেশ, সেমিকন্ডাক্টর জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রভৃতি।

খরচাপাতিঃ

সরকারি নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটে খুবই সামান্য খরচ। ভর্তির সময় ১০-১৫ হাজার টাকা লাগে কিন্তু এর পরপরই প্রতি মাসে স্টাইপেন্ড বা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।

আর বেসরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠানে খরচ কেমন—নির্ভর করছে কোথায় পড়বেন তার ওপর। ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারির জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

আর বিসিএস ইন নার্সিং কোর্সের জন্য প্রতিষ্ঠানভেদে গুনতে হবে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। ভর্তির সময় খেয়াল রাখতে হবে, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) অনুমোদিত কি না। অনুমোদিত হলে নির্ভয়ে ভর্তি হয়ে যাবেন আপনার পছন্দের বেসরকারি নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউটে। তবে, বেসরকারি নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউটে ভর্তির জন্য অবশ্যই সরকারি নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং ভর্তি পরীক্ষায় 40+ নম্বর পেতে হবে।

নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটিউটের তালিকা ও ভর্তির বিস্তারিত জানা যাবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ও বিএনএমসির ওয়েবসাইটে—

www. dgnm. gov. bd

www. bnmc. gov. bd

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ উপরে উল্লেখিত দুটি ওয়েবসাইটের লিংক এ দেখুন, space ব্যাবহার করা হয়েছে . (ডট) এর পরে, আপনারা space ছাড়া website browse করবেন।

অথবা Google এ যেয়ে, BNMC অথবা DGNM লিখে search করলে প্রথমেই Website গুলো পেয়ে যাবেন।

সুযোগ সুবিধাঃ

বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে প্রতিষ্ঠান, চাকরির স্তর ও অভিজ্ঞতাভেদে নার্সদের বেতন ১৬ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

আর সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের বেতন হয়ে থাকে দশম গ্রেডে; ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা।

বর্তমানে সরকারি পর্যায়ের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। অভিজ্ঞ ও বিএসসি করা নার্সরা সহজেই প্রমোশন পান। বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে যারা ICU, CCU, OT সহ বিশেষায়িত ইউনিটে ডিউটি করেন, তারা তুলনামূলক বেশি বেতন পান।

'স্টাফ নার্স’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর পরবর্তী সময়ে প্রমোশন পেয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্স, নার্সিং সুপারভাইজর, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, মেট্রন নার্স/নার্স ম্যানেজার পর্যন্ত হতে পারেন এবং রয়েছে নার্সিং এ শিক্ষকতা করার সুযোগ।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানভেদে নার্সরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

কালের কন্ঠে প্রকাশিত হয়েছিলো, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

নতুন ব্যাচ 1/11/2020

সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক সিট নিয়ে

বিস্তারিত জানতে 👉📞📱

01764567273

01642947946

Comments

Popular posts from this blog

নিউরন নার্সিং কোচিং রাজশাহী তে ভর্তি চলছে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ডাক্তার তালিকা ও ফোন নাম্বার

কোন কোচিংকত ভর্তি ফি কত